২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

১০ মে, ২০২৬

কাহালুর পাইকড়ে মৎস্য চাষীর ২০ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

নামুজা (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ন
কাহালুর পাইকড়ে মৎস্য চাষীর ২০ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

বগুড়া কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের পাঁচখুর গ্রামের এক মৎস্য চাষীর ২০ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের খবর পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে, বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের পাঁচখুর পুর্বপাড়া বাগলা পুকুর নামের ৯০ শতক জমির একটি জলাশয়, ১৫ জন শেয়ারদারের নিকট থেকে ৩ বছর মেয়াদে পত্তন নিয়ে মৎস্য চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, পাঁচখুর গ্রামের মৃত্যু ছামছুর রহমান বাবুর পুত্র শহিদুল ইসলাম। তার চাঁষাবাদকৃত পুকুরের পার্শ্বেই একই গ্রামের মৃত্যু কেরামত আলীর পুত্র আব্দুস শুকুর প্রামানিকের পুকুরও রয়েছে। আব্দুস শুকুরের পুকুর পাড়ে লাগানো হয়েছে প্রচুর পরিমানে নিষিদ্ধ ইউক্যালেপ্টাস গাছ। যা অত্যান্ত ক্ষতিকর। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে, যা মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি করে। এর পাতা ও বাকল পঁচে মাটিতে ট্যানিন ও অ্যাসিডিক উপাদান মেশায়, যা মাটির উর্বরতা কমিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। আশেপাশে অন্য কোনো ছোট গাছ বা ফসল সহজে বাড়তে পারে না। এটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফুলের রেণু বায়ুতে মিশে শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর পাতা পানিতে পঁচে দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে। এই কারণগুলোর জন্যই ২০০৮ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কতৃক এর চারা উৎপাদন ও রোপণে কড়াকড়ি আরোপ কর হয়। 

গত ঝরে আব্দুস শুকুরের এই নিষিদ্ধ ১টি ইউক্যালেপ্টাস গাছ ভেঙে পড়ে শহিদুলের চাঁষকৃত পুকুরে। বেশ কয়েকদিন গাছের ডালপালা ও পাতাগুলো পানিতে ডুবে থাকার কারণে, সেগুলো পঁচে দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি করে। ফলে শহিদুল ইসলামের পুকুরের ২০ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিনষ্ট হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম জানান, আমি পুকরটি পত্তন নিয়ে মৎস্য চাঁষাবাদ করে আসছি। গত কয়েকদিন পুর্বের ঝরে আব্দুস শুকুরের একটি ইউক্যালেপটাস গাছ ভেঙে, আমার পুকুরের ভিতরে পড়ে যায়। তারপর আমি তাকে কয়েকদিন যাবত গাছটি পানি থেকে তোলার জন্য বলে আসছি, কিন্তু সে কোনো কর্ণপাত করেনা। যে কারণে পানি বিষাক্ত হয়ে আমার ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরে পোনা অবমুক্ত করা হয় ১ বছর পুর্বে। এখন ডিম ফোটানোর সময় হয়েছে। এমন সময় আমার এরকম ক্ষতি হওয়াতে, আমি তো অসহায় হয়ে গেলাম। খাদ্যের দোকানে আমার ১০ লক্ষ টাকা বাকি আছে। সে টাকা আমি কই থেকে দিবো। 

তিনি আরও জানান, আব্দুস শুকুর ৫২ শতকের একটি পুকুর, ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় আমার নিকট ৩ বছর মেয়াদে পত্তন রাখে। পরে সে, পুকুর দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তার সাথে আমার দন্ধ হয়। দন্ধের কারণে সে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছে। যা আদালতে এখনো চলমান রয়েছে। আমার বিশ্বাস আমাকে হেনস্তা করার জন্যই, পুকুর থেকে গাছ না উঠিয়ে সে আমার এমন সর্বনাশ করেছে। আমি তদন্ত সাপেক্ষে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

কাহালু দরগাহাটের খাদ্যের ডিলার মিজানুর রহমান বলেন, আমি প্রায় ১১ লক্ষ টাকা শহিদুলের নিকট থেকে পাওনা আছি, আজ সকালে মাছ নিধনের সংবাদ পেয়ে চলে এসেছি। এটা খুবই দুঃখ জনক ঘটনা।

মাছ রক্ষার জন্য, মৎস্য চিকিৎসকদের পরামর্শে অক্সিজেন তৈরি ও গ্যাস বাহির মেসিন সেট করা হয়েছে। এবং পানি শোধোনের জন্য  লবন ছিটানো হচ্ছে।

আব্দুস শুকুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা না পেয়ে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝরের পড়ের দিনই আমি লোক দিয়ে ভেঙে পড়া ডালপালা পুকুর থেকে তুলে নিয়েছি।

ইউক্যালেপ্টাস গাছ পানিতে পড়লে মাছের কোনো ক্ষতি হয় কি না? 
এ ব্যাপারে এবিএসকেএফের মৎস্য চিকিৎসক " ডাঃ আসাদ"র সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, এই গাছের পাতা পানিতে পঁচে বিষাক্ত হয়ে যায়। এর ফলে ঐ পানিতে থাকা সকল প্রাণীরই, প্রাণ নাশের সম্ভাবনা থাকে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানা গেছে।